HSC Admission

সার্টিফিকেট নাম ও বয়সের ভুলের সংশোধন আবেদন করার নিয়ম

Pinterest LinkedIn Tumblr

বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে নামের বানানের ভুল থাকে পাশাপাশি জন্ম তারিখ এবং সাল নিয়ে নানান সমস্যা থাকে শিক্ষার্থীরা । তাছাড়া অভিভাবক অর্থাৎ বাবা মায়ের নামের বানান ভুল থাকে | যেটা নিয়ে সরকারি বেসরকারি চাকরির জটিলতা তৈরি হয় । সার্টিফিকেট সংশোধন

সার্টিফিকেটে তথ্য সংশোধনের দুটি উপায় রয়েছে । অনলাইন এবং অফলাইন । তবে বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে আপনি ঘরে বসে সার্টিফিকেটের বিভিন্ন ভুল সংশোধনের জন্য

আবেদন করতে পারবেন এবং এবং খুব সহজে সার্টিফিকেট সংশোধন করতে পারবেন । সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো নিচের অংশে।

প্রথম কাজঃ নোটারি পাবলিক

নিজের নাম বা বাবা মায়ের নাম অথবা জন্ম তারিখ এর ভুল সংশোধন করার জন্য একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা নোটারি পাবলিকের নিকট গিয়ে এফিডেভিট করতে হবে ।আবেদনকারীর বয়স যদি 18 হয় তাহলে সে নিজেই এফিডেভিট করতে পারবে ।

তবে 18 নিচে বয়স হলে অথবা বাবা-মা নামের বানান ভুল করতে চাইলে অবশ্যই বাবা-মাকে এফিডেভিট করতে হবে।

এফিডেভিট করার জন্য নোটারি পাবলিক 200 টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প আবেদনকারীর জন্য একটি এফিডেভিট করে দিবেন । এক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক সরকার কর্তৃক রেজিস্টার ব্যক্তি কিনা তা যাচাই করতে হবে।

দ্বিতীয় কাজ: জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন

এফিডেভিট করার পর যে কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দিতে হবে । বিজ্ঞাপনের সময় শিক্ষার্থীর বর্তমান সার্টিফিকেটের তথ্য [ নাম , পিতার নাম , মাতার নাম , শাখা , পরীক্ষার কেন্দ্রের নাম , রোল , বোর্ড এবং জন্ম তারিখ উল্লেখ করে সংশোধন বিষয়ে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে সংশোধন করবে

তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করতে হবে } অবশ্যই বিদেশ সম্পর্কিত কোন বিষয়ে ইংরেজি পত্রিকা বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

তৃতীয় ধাপ- আবেদন প্রক্রিয়া

জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর আপনি যে সার্টিফিকেট সংশোধন করতে চান সেই

প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে কথা বলতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার অপারেটর থেকে আবেদন করতে হবে ।

এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন এবং ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে আবেদন করতে যে সকল ডকুমেন্ট দরকার হবে তা হলঃ

  • এফিডেভিট কাগজপত্র
  • বিজ্ঞাপন এর পেপার কাটিং
  • আবেদনকারীর জন্ম সনদ- যদি আপনার নামের বানান ভুল থাকে অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র
  • বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট এনআইডি কার্ড – যদি বাবা-মা নামের নামে ভুল থাকে।

কম্পিউটারের মাধ্যমে ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আবেদন করা হবে । পরবর্তীতে আবেদনের সময়

একটি ফোন নম্বর দেয়া হবে যেখানে মেসেজ চলে আসবে অবশ্যই । ফোন নাম্বারটি সচল থাকতে হবে ।

আবেদনের পর সোনালী ব্যাংকে 500 টাকা আবেদন ফি জমা দিতে হবে । আবেদন ফি জমা দেয়া হলে আপনার আবেদনের ফরম গ্রহণ করা হবে। বোর্ড থেকে আবেদন ফী রশিদ সরকার সংরক্ষণ করবেন ।

ফি প্রদানের পর বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপনার প্রোফাইল ক্রিয়েট করতে পারবেন সেখানে লগইন করে আবেদন সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারবেন।

আবেদন সম্পন্ন হওয়ার প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য ।

সার্টিফিকেট সংশোধন কার্যক্রম শেষ হলে আপনার ফোনে ম্যাসেজ পাঠানো হবে বোর্ড থেকে ।

পরবর্তীতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে লগইন করে ডকুমেন্ট উত্তোলন অপশনে গিয়ে ডকুমেন্ট উত্তোলনের জন্য আবেদন করতে হবে ।

এক্ষেত্রে অনলাইনের মাধ্যমে সকল কাজ করতে পারবেন । স্কুল কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন নেই ।

পরবর্তীতে আবেদনের পর উত্তোলন ফি বাবদ 500 টাকা একটি সোনালী ব্যাংকের ওয়েবসাইটে থেকে স্লিপ দেয়া হবে ।

তা নিয়ে সোনালী ব্যাংকে চলে যেতে হবে । টাকা জমা দিন প্রদানের 7 দিনের মধ্যে ফোনে মেসেজ আসবে আপনার ডকুমেন্টস উত্তোলনের জন্য ।

এরপর একটি পিডিএফ ফাইল পাবেন । সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে শিক্ষা বোর্ডে জমা দিন এবং আসল সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

এরপর 2 বা1 দিনের ভিতরে তারা বোর্ড থেকে জানিয়ে দিবে সার্টিফিকেট রেডি আছে।

পরবর্তীতে 2 বা 1 দিন পর ডকুমেন্ট স্লিপ ও ব্যাংকের রশিদ এর মূলকপি নিয়ে জমা দিতে হবে এবং সার্টিফিকেট থেকে উত্তোলন করতে হবে।

সার্টিফিকেট সংশোধনের খরচঃ সার্টিফিকেট সংশোধন

  • পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য 500 টাকা এর কম বেশী দিতে হবে
  • নোটারি পাবলিকের জন্য 500 টাকার কম বেশি লাগতে পারে
  • আবেদন ফি 500 টাকা দরকার হবে সে ক্ষেত্রে প্রতি বোর্ডে আবেদন ফি আলাদা হবে আলাদা হয়ে থাকে
  • সার্টিফিকেট উত্তোলন ফ্রী 500 টাকা দিতে হবে

সার্টিফিকেট সংশোধন – আরও পড়ুনঃ বিজ্ঞান বিভাগের সাবজেক্ট নির্বাচন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি